Monday, April 15, 2019

ক্যালেন্ডারের না জানা কথা

4 comments
February তে 28 দিনই কেন থাকে?

আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি ক্যালেন্ডারে 12 মাস আর February 28 দিন ছাড়া অন্য মাসে 30 বা 31 দিন করে আছে। তাছাড়া প্রত্যেক চতুর্থ বছরে February 29 দিনে। আমাদের অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগে February কেন 28 দিনে? আজ আমার ব্লগের প্রথম দিনে বলবো সেই কথা। সঙ্গে বলবো Leap year কেন হয়? আবার 1900 খ্রিস্টাব্দ কেন Leap year নয়।

জানতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হবে রোম সাম্রাজ্যে। খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে (800 BC)। তখন ছিল Romulus রাজার রাজত্ব। মানুষের জীবিকা ছিল মূলত কৃষিকাজ। প্রজাদের কর্মের উপর নির্ভর করতো রাজকোষের আয়। তখন কোনো ক্যালেন্ডারের প্রচলন ছিলোনা। মানুষ গরম ঠান্ডা আবহাওয়ার উপর নির্ভর করে বা চাঁদ সূর্যের আকার ও অবস্থান দেখে চাষাবাদ করতো। এতে সঠিক সময়ে চাষ করা যেত না। অনেক ফসল নষ্ট হতো। আবার জন্ম-মৃত্যু, বিভিন্ন উৎসব, ধর্মীয় অনুষ্ঠান বা সৈন্য সজ্জা করতেও সমস্যা হতো। রাজা Romulus ঠিক করলেন ক্যালেন্ডার বানাবেন আর সেই অনুযায়ী সব কাজ হবে। যেমন কথা তেমন কাজ। তখন রোমে শীতের দিনে চাষাবাদ হতো না, মানুষ কর্মহীন হয়ে বসে থাকতো। তাই ক্যালেন্ডার নির্মাতারা শীতের দিন গুলোকে বাদ দিয়ে ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করলেন। সেখানে থাকলো 10 টা মাস আর মাসগুলো কোনটা 30 কোনোটা 31 দিনে। ফলে বছর দাঁড়ালো 304 দিনে। বছর শুরু হলো March মাস দিয়ে আর শেষ December এ। Martius (31), Aprilis (30), Maius (31), Lunius (30), Quintilis (31), Sextilis (30), September (30), October (31), November (30) এবং December (30).

এইভাবে কিছু বছর চলার পর দেখা গেলো আবহাওয়া বা ঋতু পরিবর্তন সঠিক সময়ে হচ্ছে না। শীতকাল কখনো বছরের শুরুতে তো কখনো মাঝে তো কখনো শেষে আসছে। তখন খ্রিস্টপূর্বাব্দ 713 (713 BC)। রাজা ছিলেন Numa Pompilius. তিনি ঠিক করলেন যে ক্যালেন্ডারকে নতুন ভাবে সাজাবেন। 10 মাসের পরিবর্তে তিনি 12 মাসে বছর করার সিদ্ধান্ত নেন। আবার ঋতু  পরিবর্তনের থেকে চাঁদের ছোট বড় হওয়া  ছিল অনেক সঠিক। কারণ প্রতি 29.5 দিনে চাঁদ পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করে (Lunar Cycle)। ঠিক হয় চন্দ্র মাস অনুযায়ী তৈরি হবে চন্দ্র বছর। সেই সময় রোমের বাসিন্দারা জোড় সংখ্যাকে (2, 4, 6, 8) অশুভ মনে করতো। তারজন্য প্রথমেই যে মাসে 30 দিন ছিল সে গুলি কে 29 দিন করে দিলো। ফলে বছর দাঁড়ালো 298 দিনে। চন্দ্রবছর অনুযায়ী বছর হয় (29.5×12=) 354 দিনে। 354 জোড় সংখ্যা, অশুভ সংখ্যা। তায় তার সঙ্গে 1 দিন যোগ করে বছর করা হয় 355 দিনে। বাকী (355-298=) 57 দিনকে দুটি মাসে ভাগ করে বছরের শেষে যোগ করা হয়। মাস দুটি হয় January (29) আর February (28)। যেহেতু February বছরের শেষ, সেজন্য এই মাসেই 28 দিন করা হয়।

এভাবেও সমস্যার সমাধান হলো না। বছরের পর বছর যেতে যেতে ঋতু  পরিবর্তন আর বছরের হিসাবে পার্থক্য দেখা দেয়। এই পার্থক্য পূরণের জন্য প্রয়োজন হয় একটি অতিরিক্ত মাসের। 646 খিস্টপূর্বাব্দে বছরে সঙ্গে যুক্ত হয় Leap Month. মাসের নাম হয় Mercedonius. মাসে দিন সংখ্যা 22 অথবা 23 হতো। এইভাবে চলার ফলে বছরের হিসাবের কিছুটা সমস্যা সমাধান হয় ঠিকই কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় অন্যত্র। কোন বছরে এই অতিরিক্ত মাস থাকবে তা নির্ধারণ করতে তখনকার সম্রাটরা বা রাজনৈতিক নেতারা। তারা তাদের প্রভাব খাটিয়ে স্বার্থের জন্য ইচ্ছা মতো এই মাস যোগ করতেন। এইভাবে কেটে যায় 600 বছর।

বিখ্যাত সম্রাট Julius Caesar মিশরের ক্যালেন্ডার দেখে অনুপ্রাণিত হন। মিশর ক্যালেন্ডারে চন্দ্র বছরের পরিবর্তে সৌর বছরকে এক বছর ধরা হতো। তিনিও জ্যোতির্বিদদের দিয়ে গণনা করিয়ে দেখেন সৌর বছর হয় 365 দিন 6 ঘন্টায়। সেই দেখে তিনি মাসের দিন সংখ্যার পরিবর্তন আনেন। 29 দিনের মাস  করে দেন 30. December মাসকে করেন 31. January আর February কে নিয়ে আসেন বছরের প্রথমে। সপ্তম আর অষ্টম মাসের নাম বদলিয়ে নিজের সন্তানদের নামে  নামকরণ করেন, July আর August. বছরের  দিন সংখ্যা হয় 365. সৌর বছরে অতিরিক্ত যে 6 ঘন্টা থাকছে তা প্রতি 4 বছর অন্তর February মাসের সঙ্গে যুক্ত করেন। সূত্রপাত হয় আধুনিক ক্যালেন্ডারের, যার প্রতি 4 বছর অন্তর হয় Leap year.

1900 সালটি Leap Year নয় কেন?

পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে 365 দিন 6 ঘন্টায়। এই সময়কেই বলা হয় সৌর বছর। এই সৌরবছরের অতিরিক্ত 6 ঘন্টা অর্থাৎ 4 বছরে মোট 24 ঘন্টা, প্রতি চতুর্থ বছরে যোগ করা হয়। এই কারণেই যে বছরের সাল সংখ্যাকে 4 দ্বারা ভাগ করা যায় সেই বছরই হয় leap year  বা অধিবর্ষ। যেমন 2019 সালটি 4 দ্বারা সম্পূর্ণ বিভাজ্য নয় তাই এটি leap year নয় আবার 2016 সালটি 4 দ্বারা সম্পূর্ণ বিভাজ্য সুতরাং 2016 leap year. এখন প্রশ্ন 1900 সালটি কি leap year? ক্যালেন্ডার দেখলে দেখা যাবে যে 1900 সালটি leap year নয়। কেন?

বিজ্ঞানের  উন্নতির সাথে সাথে জানা যায় পৃথিবী সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে 365 দিন 5 ঘন্টা 48 মিনিট 46 সেকেন্ডে। যার ফলে প্রতি বছর 11 মিনিট 14 সেকেন্ড করে সময় আমাদের বছরে বেশি ধরা হয়। এই সমস্যা সমাধানের জন্য যে সব বছরে শেষে দুটি শূন্য (00) থাকে অর্থাৎ যে সালগুলি 100 এর গুণিতক (যেমন- 1600, 1900, 2000, 2100) সেই সালগুলি 4 দ্বারা বিভাজ্য হলেও যদি 400 দ্বারা বিভাজ্য না হয় তবে সেটি leap year হয় না। 1900 4 দ্বারা ভাগ করা  গেলেও 400 দ্বারা ভাগ করা যায় না। সেজন্যই 1900 সালটি leap year নয়।


4 comments:

  1. আসাধারণ। সত্যিই পড়ে খুব ভালো লাগল ।

    ReplyDelete
  2. খুব সুন্দর লেখা ।

    ReplyDelete
  3. খুশমাশা খুশমাশা

    ReplyDelete