আমি একটি সূত্র শুনেছি নাম তিনের সূত্র- মানুষ খাবার ছাড়া 3 মাস বাঁচাতে পারে, জল ছাড়া 3 দিন এবং বাতাস ছাড়া 3 মিনিট বাঁচতে পারে। এই সূত্র শুনে আমার মনে একটা প্রশ্ন জাগে- তাহলে মানুষ internet ছাড়া কতক্ষন বাঁচবে? নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন যে আজ না জানা কথার বিষয়বস্তু internet. Internet এর প্রসঙ্গ আসলেই সঙ্গে আসবে মোবাইল, কম্পিউটার, Social Media, Banking Service, Hacking ইত্যাদি বিষয়। এরজন্যই Internet সম্বন্ধে সামান্য কিছু লিখলেও সেটা উপন্যাস হয়ে যাবে। তাই বেশ কয়েকটা পর্বে ভেঙে ভেঙে লিখবো। আজ থাকছে internet কি ও তার কর্ণধার বা মালিক কে সেই বিষয়ে কথা। তবে যারা সময় অভাবে পড়তে পারেন না তাদের জন্য এই পর্ব থেকে থাকছে সারসংক্ষেপ। যেটা লেখা থাকবে বাঁকা হরফে (Italic Font-এ)।
আজকের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে:
আজকের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে:
একাধিক কম্পিউটার সংযোগ করে আমরা LAN তৈরি করি। তেমনি সারা বিশ্বের server কম্পিউটারগুলি সংযোগ করে তৈরি হয় internet. Internet একটি Network ব্যবস্থার নাম। তাই এর কর্ণধার বা মালিক নেই। তাছাড়া এটি সংযোগকরি মাধ্যম, এর কোনো উৎস নেই বলে Internet এর কোনো খরচ নেই। শুধুমাত্র সংযোগকারী তার বা cable এবং যন্ত্রাংশের কেনা ও রক্ষনাবেক্ষনের খরচ লাগে। Internet Service Provider বা ISP কোম্পানিগুলিকে তিনটি tier এ ভাগ করা হয়। বিভিন্ন দেশের Server গুলিকে optical fiber বা submarine cable দিয়ে যুক্ত করে কিছু কোম্পানি, যাদের বলে Tier 1 কোম্পানি (যেমন Tata Communications India Limited)। এই cable গুলি সমুদ্রের নীচে দিয়ে বিছানো থাকে। Landing point থেকে Tier 2 কোম্পানিগুলি (যেমন Vodafone, Airtel, Jio) Tier 1 কোম্পানির কাছ থেকে internet নিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয় তাদের Network এর মাধ্যমে। কিছু স্থানীয় কোম্পানি Tier 2 কোম্পানির কাছ থেকে internet নিয়ে গ্রাহকের বাড়িতে পৌঁছে দেয় তাদের Tier 3 কোম্পানি বলে (যেমন- Asianet Broadband, Hathway, Sify)। চলুন বিস্তারিত জানা যাক।
Network কি? Network থেকে Internet:
Internet বা অন্তর্জাল সম্বন্ধে বলার আগে বলি Network কি? সংজ্ঞা দিলে এমন হবে: যে মাধ্যমের সাহায্যে দুই বা ততোধিক ব্যক্তি বা বস্তুর মধ্যে সংযোগ তৈরি করা হয় তাকেই বলে Network. কিছু উদাহরণ দেখা যাক। Telephone Network এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রাখি। বিদ্যুৎ বন্টন সংস্থা সারা দেশে Electric Network তৈরি করে রেখেছে, এই Electric Network এর সঙ্গে আমাদের বাড়ির সংযোগ করে আমরা বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে পারি। একই রকমভাবে আছে Cable Network. শহর অঞ্চলে থাকে জল সরবরাহের জন্য Pipeline এর network, ইত্যাদি। দুটি বা তার বেশি কম্পিউটারকে তার দিয়ে যুক্ত করে দিলে একটি network তৈরি হয়। যাকে বলে LAN বা Local Area Network. যেমন অফিস বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়।এই LAN বড় পরিসরে যেমন শহর জুড়ে যখন তৈরী হয় তাকে বলে WAN বা Wide Area Network. এই network যখন সারা পৃথিবী জুড়ে তৈরি হয় তখন তাকে বলে Internet.
Server কি? Server ও Internet এর সম্পর্ক:
ধরা যাক একটা শহরে একটা কোম্পানির 5টি ব্রাঞ্চ আছে। প্রতিটি ব্রাঞ্চে অনেক কর্মচারী কাজ করে। কর্মচারীরা তাদের কাজের তথ্যগুলি তাদের নিজস্ব কম্পিউটারে জমা রাখে। প্রত্যেকে যাতে প্রত্যেকের তথ্য নিয়ে কাজ করতে পারে তাই ব্রাঞ্চগুলিতে LAN এর ব্যবস্থা আছে। কিন্তু সমস্যা দেখাযায় যখন একজন অনুপুস্থিত থাকে। তার কম্পিউটার খোলা না থাকায় অন্যরা তার তথ্য পায় না। এই সমস্যার জন্য কোম্পানি ঠিক করলো যে প্রতি ব্রাঞ্চে একটি বড় এবং দক্ষ কম্পিউটার রাখা হবে । যে কম্পিউটারটি সর্বদা চালু থাকবে। কর্মচারীরা সবাই তাদের কাজের তথ্য নিজস্ব কম্পিউটারে জমা না করে জমা করবে এই কম্পিউটারে। এই কম্পিউটারটিকে বলা হয় Server. বাস্তবেও Server হলো একটি Computer বলা ভালো Super Computer যার মধ্যে বিভিন্ন তথ্য মানে data সংরক্ষিত থাকে। প্রতিটি ব্রাঞ্চে একটি করে Server তৈরি করলো কোম্পানি। কোম্পানি আরো সিদ্ধান্ত নিলো যে প্রতিটি ব্রাঞ্চের Server একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। যার ফলে কোন একটি ব্রাঞ্চে কি কাজ হচ্ছে যেকোনো ব্রাঞ্চে বসে যে কেউ দেখতে পারবে এবং তথ্য ব্যবহার করতে পারবে। একটি কাজ দুবার করে করতে হবেনা। একটি ব্রাঞ্চে একজন করলেই অন্যরাও সেটা পেয়ে যাবে। এবার এই উদাহরণটিকে একটু বড় করে ভাবুন। যদি সারা বিশ্বে প্রতিটি দেশ তাদের নিজেদের server গুলিকে অন্য দেশগুলির server এর সঙ্গে যুক্ত করে একটি network তৈরি করে দেয়। তাহলে বিশ্বের প্রতিটি দেশ যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে যেকোনো তথ্য পাবে। আর সাধারণ মানুষ যদি তাদের বাড়ির কম্পিউটারটিকে এই network এর সঙ্গে যুক্ত করে নেয় তাহলে বিশ্ব তাদের হাতের মুঠোয়। এই সম্পূর্ণ ব্যবস্থাটিকে বলা হয় Internet ব্যবস্থা। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের server গুলি এই internet network এর মাধ্যমে যুক্ত। তাহলে দেখা যাচ্ছে কোনো একটি স্থানে internet এর উৎপত্তি নয়। Internet একটি network এর নাম মাত্র। যে network টি সারা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত।
এই প্রশ্ন সবার মনে প্রশ্ন হওয়া স্বাভাবিক। হয়তো ভাবছেন যে server গুলো Satellite এর মাধ্যমে যুক্ত। সুম্পূর্ণ ভুল। বিভিন্ন দেশের server গুলো তারের মাধ্যমে যুক্ত। অবিশ্বাস্য হলেও এটাই সত্যি। তবে যেকোনো তার নয়, এগুলোকে বলা হয় Optical Fiber. চুলের মতো সরু হয় তারগুলো। এতো সরু হলেও data transfer rate বা তথ্য বিনিময় হার অত্যন্ত বেশি, প্রায় 150 Gigabits প্রতি সেকেন্ডে (150 Gbps)। এই ফাইবার গুলি বিছানো আছে সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে। একগুচ্ছ ফাইবার দিয়ে তৈরি হয় একেকটি তার। তারপর সেগুলিকে মোড়ানো হয় বিভিন্ন সুরক্ষা কবজ দ্বারা। ছবিতে দেখুন। তারপর সেগুলিকে বিছিয়ে দেওয়া হয় সমুদ্রের মধ্যে দিয়ে। অতি সুরক্ষিত ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও এই তার বা cable গুলির গড় কার্যকাল 25 বছরের বেশি হয় না। নোনা জলের প্রভাব, সার্ক বা হাঙ্গরের আক্রমণ, ভূমিকম্প প্রভৃতি কারণে নির্দিষ্ট সময় অন্তর এই cable গুলিকে বদলাতে হয়। এই cable গুলোর পোশাকি নাম Submarine Cable. Cable গুলি ভূভাগে যেখানে এসে শেষ হয় তাকে বলে landing point. ভারতে মুম্বাই, চেন্নাই, কোচিন প্রভৃতি স্থানে Landing Point রয়েছে। সবথেকে বেশি cable গিয়েছে মুম্বাই শহর দিয়ে। একটি website আছে যেখানে এই cable গুলির সম্বন্ধে তথ্য ও map দেওয়া আছে। Website টি হলো https://www.submarinecablemap.com. এখানে গিয়ে আপনি আরো তথ্য জানতে পারেন।

Internet একটি network ব্যবস্থার নাম, তাই এর কোনো মালিক নেই। তবে এই network তৈরি করতে বেশকিছু কোম্পানি নিযুক্ত আছে। এইসব কোম্পানিগুলি internet প্রদান করে। এদের বলে ISP বা Internet Service Provider. এই ISP কোম্পানিগুলিকে মূলত তিনটি ভাগে বা tier এ ভাগ করা হয়। Tier 1, Tier 2 এবং Tier 3 কোম্পানি। যেসমস্ত কোম্পানিগুলি Submarine Cable গুলি বিছিয়েছে এবং রক্ষনাবেক্ষন করে তাদের বলে Tier 1 কোম্পানি। ভারতে Tier 1 কোম্পানিটি হলো Tata Communications India Limited. এই কোম্পানি 700,000 km এরও বেশি cable বিছিয়ে রেখেছে সমুদ্রের নীচে। Landing point থেকে Tier 2 কোম্পানিগুলি সমস্ত স্থলভাগে ছড়িয়ে দেয় internet. ভারতে Vodafone, Bharti Airtel Limited, Reliance Jio Infocomm Limited প্রভৃতি Tier 2 কোম্পানি। Tier 2 কোম্পানির কাছ থেকে internet নিয়ে Tier 3 কোম্পানিগুলি আমাদের বাড়িতে internet পৌঁছে দেয়। এই কোম্পানিগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো Asianet Broadband, Hathway, Sify প্রভৃতি।
Internet এর খরচ কত?
Internet এর কোনো উৎস নেই যে এটা তৈরী করতে খরচ হবে। Internet প্রদান করতে শুধুমাত্র cable ও সংযোগকারী যন্ত্রগুলি কেনা ও তার রক্ষনাবেক্ষনের খরচ হয়। Tier 1 কোম্পানিগুলিকে তো একাধিক cable backup হিসাবে বিছিয়ে রাখতে হয় এবং রক্ষণাবেক্ষণও করতে হয়। Tier 2 কোম্পানিগুলির কাছ থেকে Tier 1 কোম্পানি গুলি GB প্রতি মূল্য নেয়। Tier 2 ও Tier 3 কোম্পানিগুলি স্থলভাগে তাদের network তৈরী করে ও তার রক্ষনাবেক্ষন করে। এরা consumer বা ব্যবহারকারীর কাছ থেকে মূল্য সংগ্রহ করে।
