17তম সাধারণ নির্বাচন অর্থাৎ লোকসভা নির্বাচন শেষ। আমি আপনি সবাই ভোট দিয়েছি যে যার পছন্দের প্রার্থীকে। কিন্তু প্রার্থী ছাড়াও আরো একটি বোতাম ছিল EVM এ। সেটা কি আপনি খেয়াল করেছেন? যার নাম হলো NOTA অর্থাৎ None of the above. ওটা কি বস্তু? ওটা টিপলেও কি ভোট দেওয়া হয়? ওটা দিয়ে কাকে ভোট দেওয়া যায়? এসব প্রশ্নের উত্তর অনেকেই জানেনা। কেউ কেউ না জেনেই NOTA তে ভোট দিয়েছে। আমি, দিব্যেন্দু কর্মকার, আজ না জানা কথার সপ্তম পর্বে জানাবো সেই সব উত্তর। আপনি NOTA সম্বন্ধে জেনে থাকলেও আমার এই লেখাতে থাকছে এমন কিছু বিষয় যা আপনার কাছে হয়তো নতুন।
NOTA-র ইতিহাস:
ভোট কি? আমার ভোটদানের অর্থ কি? NOTA সম্বন্ধে জানার আগে ভোট সম্বন্ধে জানতে হবে। মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা থেকে কেবলমাত্র একজনকে পছন্দ করাকে ভোট বলে। পাঁচ জন প্রার্থী থাকলে আমার পছন্দের একটি প্রার্থীকে আমি ভোট দিই। কিন্তু ওই পাঁচ জনের একজনকেও আমার পছন্দ না হলে, আমি কি করবো? 2013 সালের অক্টবর মাসের আগে আমার এই অপছন্দের কথা জানানোর জন্য Rule 49-O of the Conduct of Elections Rules, 1961 অনুসারে একটি ফর্ম ছিল। সেই ফর্মে আমার অপছন্দের কারণ লিখে জমা দিতে হতো। ফলে আমার সিদ্ধান্তের কোনো গোপনীয়তা থাকতো না। তবে ব্যালট ফাঁকা রাখা যেত, কিন্তু সেক্ষেত্রে ভোটটি বাতিল বলে ধরা হতো, তাছাড়া EVM এ সেটাও সম্ভব ছিল না। 2014 সালে People'S Union For Civil এই বিষয়ে একটি মামলা করে। এই মামলার ফল স্বরূপ 2013 সালের 11 অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে নির্বাচন কমিশনকে NOTA রাখার নির্দেশ দেয়। এরপর সারা দেশে সমস্ত রকম নির্বাচনে NOTA চালু হয়। সেই সময় এটাও ভাবা হয় যে, যে সব মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থী বা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা না করতে পেরে ভোটদানে বিরত থাকতো তারাও বুথে গিয়ে NOTA তে ভোট দিতে পারে। ফলে ভোটদানের হার বাড়বে এবং নকল ভোটারের সংখ্যা কমবে। যদিও সেপ্টেম্বর 2018 থেকে রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদের ভোটের ক্ষেত্রে NOTA ভোট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে কিছু সঙ্গত কারণে।
বিশ্ব ইতিহাসে NOTA:
1976 সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে Isla Vista Municipal Advisory Council এর নির্বাচনে প্রথম Negative Vote বা না ভোট ব্যবহার হয়। এরপর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে একে ব্যবহার করেছে। ভারতে একে None of the above বলা হয়, আমেরিকাতে বলা হয় None of these Candidate, ইউক্রেন ও রাশিয়াতে বলা হয় Against All, স্পেন ও আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এটা Blank Vote (ফাঁকা ব্যালটকে বলা হয়) আবার White Vote বলা হয় গ্রিস ও কলম্বিয়াতে। সার্বিয়া অন্যভাবে ভাবে এটাকে ভেবেছে। তারা NOTA নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেছে, এমনকি 2012 সালে এই NOTA দল একটি অসনও পায় তাদের সংসদে। এছাড়াও ব্রাজিল, সুইডেন, বাংলাদেশ, ফিনল্যাণ্ড, চিলি, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে এই Negative Vote এর ব্যবহার হয়।
NOTA Vote এর ক্ষমতা:
আমাদের দেশে NOTA ভোটের তেমন কোনো কার্যকারিতা না থাকলেও বিশ্ব ইতিহাসে এর ক্ষমতার অনেক উদাহরণ আছে। ব্রাজিল, সুইডেন, বাংলাদেশ, ফিনল্যাণ্ড, চিলি, বেলজিয়াম, গ্রিস, কলম্বিয়াতে, ইউক্রেন, স্পেন প্রভৃতি দেশে Negative Vote সর্বোচ্চ হলে সেই আসনে পুনঃনির্বাচন হয়। 1989 সাল, পোল্যান্ডে তখন কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় ছিল। সরকার নিজের মতো manipulate করে ভোট করতে চায়। অনেক জায়গায় বিরোধী প্রার্থীই ছিল না। মানুষ সরকারকে পছন্দ করতো না, তাই সেদেশের বাসিন্দা ভোট দেওয়ার বদলে প্রার্থীর নাম কেটে ব্যালট বাক্সে ফেলে দেয়। অনেক আসনে পুনঃনির্বাচন হয়। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীও হেরে যায়। 1991 সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়াতে এমনি হয়। Negative ভোটের জন্য সেখানকার সরকার ভেঙে যায়। 200 এর বেশি আসনে পুনঃনির্বাচন হয়। অবশ্য 2006 সাল থেকে রাশিয়াতে Negative Vote প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার মাকাশা শহরে 2018 সালের মেয়র নির্বাচনে একটিই মাত্র প্রার্থী ছিল, ভোটারদের অন্য option ছিল NOTA. সেবার সেখানে 53% : 47% ভোটে NOTA জয়ী হয়। ফলে নতুন প্রার্থী দিয়ে পুনঃনির্বাচন হয়।
ভারতে ভোটে NOTA জয়ী হলে কি হবে?
বিভিন্ন দেশে NOTA ভোট অনেক ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের দেশে NOTA ভোট এখনো তেমন কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেয় না। NOTA ভোট জেতা-হারাতে কোনো প্রভাব ফেলেনা। NOTA বাদে যে দল বেশি ভোট পায় সে দলই জয়ী বলে ঘোষিত হয়। প্রশ্ন হতেই পারে তাহলে NOTA ভোটের কাজ কি? বর্তমানে আমাদের দেশে NOTA রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এই বার্তায় পৌঁছায় যে, তারা যেন আরো ভালো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়, কারণ মানুষ মনোনীত প্রার্থীদের পছন্দ করছে না। NOTA ভোট শতাংশের হিসাবে কম হলেও অনেক জায়গায় দেখা যায় যে ওই সংখ্যক ভোট পরাজিত দল পেলে জয়ী হতো। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক। যার ফলে রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী মনোনয়ন ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বার করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। NOTA ভোটারদের বক্তব্য শুনতে বাধ্য হচ্ছে। নয়তো মানুষ NOTA তে ভোট দিয়ে হার জিতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতে NOTA Vote এর কিছু আকর্ষণীয় তথ্য:
2013 সালে ছত্রিশগড়, মিজোরাম, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম NOTA শুরু হয়। সে বছরেই 15 লাখের বেশি ভোট পরে NOTA তে যা শতাংশের হিসাবে 1.85%. কিন্তু 2014 তে তা কমে 1.08% হয়, যদিও তারপরের বছর আবার তা বেড়ে দাঁড়ায় 2.08% এ পৌঁছায়। মানুষ দেখে যে NOTA তে ভোট দিয়ে কোনো ফল হচ্ছে না। কিন্তু 2017 গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে NOTA এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। যেখানে 30টি এমন আসন ছিল যেখানে wining margin এর থেকে বেশি ভোট পরে NOTA তে। ওই 30 টি আসনের 15টি যেতে BJP এবং 13 টি যেতে কংগ্রেস। এখন যদি কংগ্রেস আরো ভালো প্রার্থী দিতো এবং মানুষ NOTA -র স্থানে কংগ্রেসকে ভোট দিতো তো সেবার কংগ্রেস জিতে যেত আর কংগ্রেস সরকার গঠন করতো। ঠিক এমনি ঘটেছে এবছর 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসনে।
পুনে জেলার বড়ি গ্রামে এক পঞ্চায়েত নির্বাচনে NOTA তে 85.57% ভোট পরে এবং মানকারবাড়ি গ্রামে 330 টি ভোটার মধ্যে 204 টি ভোট পরে NOTA তে। আরো বিশ্লেষণ করে কিছু তথ্য সামনে আসে। নির্বাচনে কিছু আসন SC বা ST সংরক্ষিত থাকে। দেখা গেছে যে সাধারণ আসনের থেকে ওই সংরক্ষিত আসনে NOTA ভোটের সংখ্যা বেশি। অর্থাৎ মানুষ তপশিলি জাতি বা উপজাতিকে তাদের প্রতিনিধি মানতে নারাজ। অথচ যে সব ক্ষেত্রে প্রার্থী দুর্নীতিগ্রস্থ বা আইনত দোষী বা সাজাপ্রাপ্ত তাদের ক্ষেত্রে NOTA ভোট তুলনামূলক কম। অর্থাৎ একজন অপরাধী বা ভ্রষ্টাচারী আমাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই পারে।
NOTA আইনের বিবর্তন:
2013 সালে NOTA আসার ফলে বিশ্বে ভারত 14তম দেশ হয় যেখানে Negative Vote কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য দেশগুলির তুলনায় ভারতে NOTA এর গুরুত্ব কম। আসলে আমাদের দেশে NOTA হলো শুধুমাত্র negative vote. আমরা প্রার্থীর উপর শুধু রাগ প্রকাশ করতে পারি মাত্র। এখানে right to rejection বা right to recall এর অধিকার কোনো ভোটারের নেই। তবে উপরের বেশ কিছু ঘটনা সামনে আসার ফলে মহারাষ্ট্রর State Election Commission 2018 সালের 6ই নভেম্বর পুরানো আইনকে পরিবর্তন করে নির্দেশ দেয় যে NOTA যেসব আসনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে সেখানে পুনঃনির্বাচন হবে। কিন্তু পুণঃনির্বাচনেও যদি NOTA জয়ী হয় তবে NOTA বাদে যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সেই জয়ী বলে ঘোষিত হবে। এরপর 21সে নভেম্বর হরিয়ানা State Election Commission তাদেরও নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করে একই নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা ওই নির্দেশের সঙ্গে আরো যুক্ত করে যে NOTA থেকে কম ভোট প্রাপ্ত প্রার্থী পুণঃনির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আশা করে থাকবো আমাদের রাজ্যসহ সারা ভারতে NOTA ভোটারের মাধ্যমে right to rejection বা right to recall এর অধিকার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় রাগ প্রকাশ করে NOTA তে ভোট দেওয়া এবং অন্যদের অন্তত যারা ভোট দিতে যান না তাদের NOTA তে ভোট দেওয়া জন্য উৎসাহিত করা।
NOTA সম্বন্ধে আরো জানতে বা অন্য প্রশ্ন থাকলে বা নতুন তথ্য জানবার জন্য নিচের comment এ লিখতে পারেন। আমার এই প্রয়াস আপনাদের কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না।
NOTA-র ইতিহাস:
ভোট কি? আমার ভোটদানের অর্থ কি? NOTA সম্বন্ধে জানার আগে ভোট সম্বন্ধে জানতে হবে। মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা থেকে কেবলমাত্র একজনকে পছন্দ করাকে ভোট বলে। পাঁচ জন প্রার্থী থাকলে আমার পছন্দের একটি প্রার্থীকে আমি ভোট দিই। কিন্তু ওই পাঁচ জনের একজনকেও আমার পছন্দ না হলে, আমি কি করবো? 2013 সালের অক্টবর মাসের আগে আমার এই অপছন্দের কথা জানানোর জন্য Rule 49-O of the Conduct of Elections Rules, 1961 অনুসারে একটি ফর্ম ছিল। সেই ফর্মে আমার অপছন্দের কারণ লিখে জমা দিতে হতো। ফলে আমার সিদ্ধান্তের কোনো গোপনীয়তা থাকতো না। তবে ব্যালট ফাঁকা রাখা যেত, কিন্তু সেক্ষেত্রে ভোটটি বাতিল বলে ধরা হতো, তাছাড়া EVM এ সেটাও সম্ভব ছিল না। 2014 সালে People'S Union For Civil এই বিষয়ে একটি মামলা করে। এই মামলার ফল স্বরূপ 2013 সালের 11 অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট তার রায়ে নির্বাচন কমিশনকে NOTA রাখার নির্দেশ দেয়। এরপর সারা দেশে সমস্ত রকম নির্বাচনে NOTA চালু হয়। সেই সময় এটাও ভাবা হয় যে, যে সব মানুষ দুর্নীতিগ্রস্ত প্রার্থী বা নির্বাচনী ব্যবস্থার উপর আস্থা না করতে পেরে ভোটদানে বিরত থাকতো তারাও বুথে গিয়ে NOTA তে ভোট দিতে পারে। ফলে ভোটদানের হার বাড়বে এবং নকল ভোটারের সংখ্যা কমবে। যদিও সেপ্টেম্বর 2018 থেকে রাজ্যসভা ও বিধান পরিষদের ভোটের ক্ষেত্রে NOTA ভোট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে কিছু সঙ্গত কারণে।
বিশ্ব ইতিহাসে NOTA:
1976 সালে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে Isla Vista Municipal Advisory Council এর নির্বাচনে প্রথম Negative Vote বা না ভোট ব্যবহার হয়। এরপর বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন নামে ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে একে ব্যবহার করেছে। ভারতে একে None of the above বলা হয়, আমেরিকাতে বলা হয় None of these Candidate, ইউক্রেন ও রাশিয়াতে বলা হয় Against All, স্পেন ও আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এটা Blank Vote (ফাঁকা ব্যালটকে বলা হয়) আবার White Vote বলা হয় গ্রিস ও কলম্বিয়াতে। সার্বিয়া অন্যভাবে ভাবে এটাকে ভেবেছে। তারা NOTA নামে একটি রাজনৈতিক দল তৈরি করেছে, এমনকি 2012 সালে এই NOTA দল একটি অসনও পায় তাদের সংসদে। এছাড়াও ব্রাজিল, সুইডেন, বাংলাদেশ, ফিনল্যাণ্ড, চিলি, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, পোল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশে এই Negative Vote এর ব্যবহার হয়।
NOTA Vote এর ক্ষমতা:
আমাদের দেশে NOTA ভোটের তেমন কোনো কার্যকারিতা না থাকলেও বিশ্ব ইতিহাসে এর ক্ষমতার অনেক উদাহরণ আছে। ব্রাজিল, সুইডেন, বাংলাদেশ, ফিনল্যাণ্ড, চিলি, বেলজিয়াম, গ্রিস, কলম্বিয়াতে, ইউক্রেন, স্পেন প্রভৃতি দেশে Negative Vote সর্বোচ্চ হলে সেই আসনে পুনঃনির্বাচন হয়। 1989 সাল, পোল্যান্ডে তখন কমিউনিস্ট পার্টি ক্ষমতায় ছিল। সরকার নিজের মতো manipulate করে ভোট করতে চায়। অনেক জায়গায় বিরোধী প্রার্থীই ছিল না। মানুষ সরকারকে পছন্দ করতো না, তাই সেদেশের বাসিন্দা ভোট দেওয়ার বদলে প্রার্থীর নাম কেটে ব্যালট বাক্সে ফেলে দেয়। অনেক আসনে পুনঃনির্বাচন হয়। এমনকি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীও হেরে যায়। 1991 সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন বা রাশিয়াতে এমনি হয়। Negative ভোটের জন্য সেখানকার সরকার ভেঙে যায়। 200 এর বেশি আসনে পুনঃনির্বাচন হয়। অবশ্য 2006 সাল থেকে রাশিয়াতে Negative Vote প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। ইন্দোনেশিয়ার মাকাশা শহরে 2018 সালের মেয়র নির্বাচনে একটিই মাত্র প্রার্থী ছিল, ভোটারদের অন্য option ছিল NOTA. সেবার সেখানে 53% : 47% ভোটে NOTA জয়ী হয়। ফলে নতুন প্রার্থী দিয়ে পুনঃনির্বাচন হয়।
ভারতে ভোটে NOTA জয়ী হলে কি হবে?
বিভিন্ন দেশে NOTA ভোট অনেক ক্ষমতার অধিকারী। আমাদের দেশে NOTA ভোট এখনো তেমন কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেয় না। NOTA ভোট জেতা-হারাতে কোনো প্রভাব ফেলেনা। NOTA বাদে যে দল বেশি ভোট পায় সে দলই জয়ী বলে ঘোষিত হয়। প্রশ্ন হতেই পারে তাহলে NOTA ভোটের কাজ কি? বর্তমানে আমাদের দেশে NOTA রাজনৈতিক দলগুলির কাছে এই বার্তায় পৌঁছায় যে, তারা যেন আরো ভালো প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়, কারণ মানুষ মনোনীত প্রার্থীদের পছন্দ করছে না। NOTA ভোট শতাংশের হিসাবে কম হলেও অনেক জায়গায় দেখা যায় যে ওই সংখ্যক ভোট পরাজিত দল পেলে জয়ী হতো। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ দিক। যার ফলে রাজনৈতিক দলগুলি প্রার্থী মনোনয়ন ও বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বার করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। NOTA ভোটারদের বক্তব্য শুনতে বাধ্য হচ্ছে। নয়তো মানুষ NOTA তে ভোট দিয়ে হার জিতের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ভারতে NOTA Vote এর কিছু আকর্ষণীয় তথ্য:
2013 সালে ছত্রিশগড়, মিজোরাম, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ ও দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম NOTA শুরু হয়। সে বছরেই 15 লাখের বেশি ভোট পরে NOTA তে যা শতাংশের হিসাবে 1.85%. কিন্তু 2014 তে তা কমে 1.08% হয়, যদিও তারপরের বছর আবার তা বেড়ে দাঁড়ায় 2.08% এ পৌঁছায়। মানুষ দেখে যে NOTA তে ভোট দিয়ে কোনো ফল হচ্ছে না। কিন্তু 2017 গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনে NOTA এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। যেখানে 30টি এমন আসন ছিল যেখানে wining margin এর থেকে বেশি ভোট পরে NOTA তে। ওই 30 টি আসনের 15টি যেতে BJP এবং 13 টি যেতে কংগ্রেস। এখন যদি কংগ্রেস আরো ভালো প্রার্থী দিতো এবং মানুষ NOTA -র স্থানে কংগ্রেসকে ভোট দিতো তো সেবার কংগ্রেস জিতে যেত আর কংগ্রেস সরকার গঠন করতো। ঠিক এমনি ঘটেছে এবছর 2019 এর লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গের তিনটি আসনে।
Constituency
|
Leading Candidate
|
Leading Party
|
Trailing Candidate
|
Trailing Party
|
Margin
|
NOTA Vote
|
Arambagh
|
APARUPA PODDAR (AFRIN ALI)
|
All India Trinamool Congress
|
TAPAN KUMAR RAY
|
Bharatiya Janata Party
|
1142
|
20495
|
Burdwan - durgapur
|
S.S AHLUWALIA
|
Bharatiya Janata Party
|
DR. MAMTAZ SANGHAMITA
|
All India Trinamool Congress
|
2439
|
18540
|
Maldaha Dakshin
|
ABU HASEM KHAN CHOWDHURY (DALU)
|
Indian National Congress
|
SREERUPA MITRA CHAUDHURY
|
Bharatiya Janata Party
|
8222
|
12062
|
পুনে জেলার বড়ি গ্রামে এক পঞ্চায়েত নির্বাচনে NOTA তে 85.57% ভোট পরে এবং মানকারবাড়ি গ্রামে 330 টি ভোটার মধ্যে 204 টি ভোট পরে NOTA তে। আরো বিশ্লেষণ করে কিছু তথ্য সামনে আসে। নির্বাচনে কিছু আসন SC বা ST সংরক্ষিত থাকে। দেখা গেছে যে সাধারণ আসনের থেকে ওই সংরক্ষিত আসনে NOTA ভোটের সংখ্যা বেশি। অর্থাৎ মানুষ তপশিলি জাতি বা উপজাতিকে তাদের প্রতিনিধি মানতে নারাজ। অথচ যে সব ক্ষেত্রে প্রার্থী দুর্নীতিগ্রস্থ বা আইনত দোষী বা সাজাপ্রাপ্ত তাদের ক্ষেত্রে NOTA ভোট তুলনামূলক কম। অর্থাৎ একজন অপরাধী বা ভ্রষ্টাচারী আমাদের প্রতিনিধিত্ব করতেই পারে।
NOTA আইনের বিবর্তন:
2013 সালে NOTA আসার ফলে বিশ্বে ভারত 14তম দেশ হয় যেখানে Negative Vote কে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অন্য দেশগুলির তুলনায় ভারতে NOTA এর গুরুত্ব কম। আসলে আমাদের দেশে NOTA হলো শুধুমাত্র negative vote. আমরা প্রার্থীর উপর শুধু রাগ প্রকাশ করতে পারি মাত্র। এখানে right to rejection বা right to recall এর অধিকার কোনো ভোটারের নেই। তবে উপরের বেশ কিছু ঘটনা সামনে আসার ফলে মহারাষ্ট্রর State Election Commission 2018 সালের 6ই নভেম্বর পুরানো আইনকে পরিবর্তন করে নির্দেশ দেয় যে NOTA যেসব আসনে সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে সেখানে পুনঃনির্বাচন হবে। কিন্তু পুণঃনির্বাচনেও যদি NOTA জয়ী হয় তবে NOTA বাদে যে প্রার্থী সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে সেই জয়ী বলে ঘোষিত হবে। এরপর 21সে নভেম্বর হরিয়ানা State Election Commission তাদেরও নির্বাচনী আইন পরিবর্তন করে একই নির্দেশ দেয়। কিন্তু তারা ওই নির্দেশের সঙ্গে আরো যুক্ত করে যে NOTA থেকে কম ভোট প্রাপ্ত প্রার্থী পুণঃনির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আশা করে থাকবো আমাদের রাজ্যসহ সারা ভারতে NOTA ভোটারের মাধ্যমে right to rejection বা right to recall এর অধিকার দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় রাগ প্রকাশ করে NOTA তে ভোট দেওয়া এবং অন্যদের অন্তত যারা ভোট দিতে যান না তাদের NOTA তে ভোট দেওয়া জন্য উৎসাহিত করা।
NOTA সম্বন্ধে আরো জানতে বা অন্য প্রশ্ন থাকলে বা নতুন তথ্য জানবার জন্য নিচের comment এ লিখতে পারেন। আমার এই প্রয়াস আপনাদের কেমন লাগছে জানাতে ভুলবেন না।

