ছয়তল বিশিষ্ট একটি ঘনক। ছয়টি তলে ছয় রকমের রং। প্রতিটি তল আবার তিনটি স্তরে বিভক্ত। প্রতিটি স্তরকে ইচ্ছামতো যেকোনো দিকে ঘোরানো সম্ভব। ঘোরাবার সঙ্গে সঙ্গে তলের রং গুলিও বিভিন্ন বলে ছড়িয়ে যায়। ঘোরাতে ঘোরাতে আবার রংগুলি নির্দিষ্ট তলে নিয়েও নিয়ে আসা যায়। রংগুলি ছড়িয়ে দেওয়া আবার নির্দিষ্ট স্থানে আনায় হলো খেলা। এমন খেলা সবাই না খেললেও দেখেছে প্রায় প্রত্যেকেই। খেলনাটির পোশাকি নাম রুবিক'স কিউব (Rubik's Cube)। আমি দিব্যেন্দু কর্মকার, আজ না জানা কথার এই পর্বে থাকছে রুবিক'স কিউব সম্বন্ধে অনেক অজানা তথ্য।
শুরুর দিনগুলি:
| রুবিক'স কিউব (Rubik's Cube) |
বৈশিষ্ট:
| রুবিকের হাতে তৈরি ম্যাজিক কিউব |
নামকরণ ও বাণিজ্যিকরণ:
| Architect and inventor Ernő Rubik |
এর্নো রুবিক ছাত্রদের ত্রিমাত্রিক বস্তু ও তার জ্যামিতিক ধারণা দেওয়ার জন্য একটা খেলনা হিসাবে এটি তৈরি করেন। কিন্তু খেলনাটি বাণিজ্যিক ভাবে উৎপাদনের জন্য কেউই আগ্রহ প্রকাশ করেনি। সবার বক্তব্য ছিল, এটি চিরাচরিত খেলনার মতো নয়। রুবিক তার "ম্যাজিক কিউব" আবিষ্কার করেন ১৯৭৪ সালে এবং ১৯৭৫ সালে হাঙ্গেরীয় প্যাটেন্ট লাভ করেন কিন্তু তখন আন্তর্জাতিক প্যাটেন্টটি হয়নি। ১৯৭৭ সালের শেষদিকে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ম্যাজিক কিউব উৎপাদন করা হয় এবং বুদাপেস্ট এর খেলনার দোকানগুলোতে বিক্রয় করা হয়। ম্যাজিক কিউব তৈরি করা হত প্লাস্টিক দিয়ে। ম্যাজিক কিউব পশ্চিমা বিশ্বে বাজারজাত করার জন্য আইডিয়াল টয় চুক্তি করে এবং ১৯৮০ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এক খেলনা প্রদর্শনীতে ধাঁধাঁটির অভিষেক ঘটে পশ্চিমা বিশ্বে। শুরু হয় বাণিজ্যিক ভাবে রপ্তানি। কিন্তু আইনি জটিলতা ও বিভিন্ন কারণে এর রপ্তানি ও বিক্রয় সাময়িক ভাবে থমকে যায়। পশ্চিমের নিরাপত্তা ও মোড়ক সম্পর্কিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী ম্যাজিক কিউবকে নতুন আঙ্গিকে প্রকাশ করা হয়। নতুন নাম দেওয়া হয় "রুবিক'স কিউব"। এই নামেই তিনি ১৯৮৭ সালে আন্তর্জাতিক প্যাটেন্ট লাভ করেন। রুবিকস্ কিউবের বিভিন্ন রকম সংষ্করণ আছে, তার মধ্যে 2×2×2 মাত্রার পকেট কিউব, 4×4×4 মাত্রার রুবিক্স রিভেঞ্জ (Rubik's Revenge) এবং 5×5×5 মাত্রার প্রফেসর্স কিউব (Professor's cube) উল্লেখযোগ্য। উনি রুবিক্স কিউব ছাড়াও বিভিন্ন যান্ত্রিক পাজল যেমন, রুবিক্স ম্যাজিক, রুবিক্স ম্যাজিকঃ মাস্টার এডিশন, রুবিক্স স্ন্যাক এবং রুবিক্স ৩৬০ আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।
জনপ্রিয়তা:
আইডিয়াল টয় কোম্পানি বিভিন্ন বিজ্ঞাপন তৈরি করে মানুষের সাথে রুবিক'স কিউবের পরিচয় ঘটাতে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রকাশ পাওয়ার দুই বছরের মধ্যে এক'শ মিলিয়ন রুবিক'স কিউব বিক্রি হয়। সে সময় অনেকেই রুবিক'স কিউবের মালিক হওয়া একটা গর্বের বিষয় মনে করতো। 1980 এর শেষের দিকে রুবিক'স কিউব প্রথমবারের জন্য বিশেষ পুরস্কারে পুরস্কিত হয় German Game of the Year এ। এরপর UK, ফ্রান্স, US বিভিন্ন দেশে খেলাটি সেরার শিরোপা জিতে নেয়। 1981 এর মার্চে Guinness Book of World Records এর তত্বাবধানে speedcubing championship অনুষ্ঠিত হয়। অনেক কার্টুন, সিনেমা, ধারাবাহিকেও স্থান পেয়েছে রুবিক'স কিউব। আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। শুধুমাত্র বিনোদন নয় অনেক ক্লাসরুমেও স্থান পেয়েছে। এটি এমন একটি খেলনা যা শিশু থেকে বৃদ্ধ সবার কাছে জনপ্রিয়। এমনকি এটি সমাধানের জন্য তৈরি হয়ে রোবটও।
World Records:
Single time এ Du Yusheng এর record টি রয়েছে 3.47 সেকেন্ডের (24 November 2018 at Wuhu Open 2018, China)। Average time এ পোল্যান্ডের Tymon Kolasiński এর রেকর্ডটি হলো 5.09 সেকেন্ডের। এক হাতে সমাধানে রেকর্ড হলো 6.82 sec (single time) এবং 9.42 sec ( average time)। তবে পা দ্বারা সমাধানের বিশ্বরেকর্ড কিন্তু ভারতের দখলে। Mohammed Aiman Koli 27 December 2019 এ VJTI Mumbai Cube Open 2019 এ রুবিক'স কিউব পা দিয়ে মাত্র 15.56 সেকেন্ডে সমাধান করে। এছাড়াও Blindfold solving, Multiple blindfold solving, Fewest moves solving, Group solving এর রেকর্ড আছে। রেকর্ড স্থাপনে বাদ যায়নি রোবটও। Non-human solving এ বিশ্বরেকর্ড রয়েছে 0.38 সেকেন্ডের। তবে জন্মদাতা এর্নো রুবিক সমাধান করতে গড়ে এক মিনিট সময় নেন।