Monday, June 24, 2019

Barnacle goose

0 comments
অদ্ভুত বৈচিত্রে ভরা আমাদের এই পৃথিবী। চতুর্দিকে ছড়িয়ে রয়েছে অভাবনীয় ভয়ঙ্কর সুন্দর ঘটনা। কোনটা আমাদের আনন্দ দেয় তো কোনটা ভয়ে কাঁপিতে দেয় বুক। ছোট্ট ছোট্ট শিশুরা আমাদের খুব আনন্দ দেয়, তা সে মানবশিশুই হোক বা জন্তু-জানোয়ারের। তাদের সুন্দর ডাক, কচি কচি পা, গুড়ি গুড়ি পদক্ষেপে হাঁটা খুব আনন্দের অনুভতি জাগায় আমাদের মনে। কিন্তু সেই শিশু শাবকটিই যদি ঝাঁপ দেয় 400 ফুট উঁচু পাহাড়ের উপর থেকে পাথরের উপর? আমি দিব্যেন্দু কর্মকার আজ না জানা কথার এই পর্বে জানাচ্ছি সেই কথা।

আজকের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে:
উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের Barnacle goose এক রাজহংস শ্রেণীর হাঁস। প্রজননের জন্য বা শীতের কারণে এরা গ্রীনল্যাণ্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যাণ্ড, বাল্টিক সাগর প্রভৃতি স্থানে উড়ে যায় আর বাসা বাঁধে। এরা শিকারী প্রাণীর হাত থেকে ডিমকে রক্ষা করতে প্রায়ই 400 ফুটের উপরে বাঁসা বাঁধে। কিন্তু শিশু শাবক উড়তে পারেনা বা এরা অন্যদের মতো খাবার এনে বাচ্ছাদের খাওয়াতে পারেনা। তাই শিশু শাবককে ঝাঁপ দিতে হয় শিকারী প্রাণী ভর্তি পাহাড়ের কোলে। অনেক পক্ষিশাবক মারা যায় এই সময়। BBC ও National Geographic Channel এর team কয়েক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম করে এই পাখিদের নিয়ে একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে। যেখানে $80000 দামের ক্যামেরাও ব্যবহার করা হয়েছে।


Barnacle goose, রাজহংস শ্রেণীর একপ্রকার পরিযায়ী হাঁস। এরা মূলত উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপে বাস করে। কিন্তু প্রজননের জন্য বা শীতের কারণে এরা গ্রীনল্যাণ্ড, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ড, নরওয়ে, ফিনল্যাণ্ড, বাল্টিক সাগর প্রভৃতি স্থানে উড়ে যায় আর বাসা বাঁধে। উত্তর মেরুর চরমভাবাপন্ন আবহাওয়ায় এদের 22-24 বছরের জীবন বড়ো কঠিন। আর এই কঠিনের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয় শত শত ফুট উপর থেকে ঝাঁপিয়ে পরে, তও আবার জন্মের 24 ঘন্টার মধ্যেই। নিরামিষাশী এই পাখিগুলি বছরে 3-5 টি ডিম পারে। এদের বাঁসা মাটি থেকে কয়েকশ ফুট উপরে বানায়, যাতে শিকারী প্রাণীরা ডিমের কোনো ক্ষতি করতে না পারে। কিছু পাখি 400 ফুটেরও বেশি উপরে বাঁসা তৈরি করে। ডিম পারার পর টানা 25 দিন তা দেয় মা পাখি। এই সময় মা পাখি কোনো খাবারও খায় না। যার ফলে দেহের ওজনও প্রায় 30 শতাংশ কমে যায়। ডিম ফুটে বাচ্ছা বার হওয়ার পর আসে এক নতুন প্রতিকূলতা। বাচ্ছাদের খাওয়াতে হবে, নইলে তারা 36 ঘন্টার মধ্যে মারা যাবে। অন্য পাখিদের মতো এরা খাবার এনে বাচ্ছাদের খাওয়াতে পারেনা। আবার খাওয়ার জন্য যেতে মাইলখানেক দূরে নদীর ধারে। যা আবার কয়েকশ ফুট নীচে। শাবক গুলিও এক মাস নাহলে উড়তে শিখবে না। উপায় থাকে একটাই- পাথরের উপর নীচে লাফ দেওয়া। David Cabot নামের Ireland’s University of Cork এর একজন প্রফেসর বলেছেন, শিশু পাখিরা এতো হালকা ও নরম হয় যে পাথরের উপর পরলেও এদের কিছু হয় না, এরা পাথরে পরে লাফিয়ে উঠে (bounce off)। 90 শতাংশ পাখিই বেঁচে থাকে। যদিও দৃশ্যটি খুব ভয়ঙ্কর তবুও এটাই প্রকৃতির নিয়ম। এখানেই এই যুদ্ধের শেষ নয়। নিচে আছে মেরু অঞ্চলের শেয়াল, আছে glaucous gull নামক এক শিকারী পাখি, আছে ঈগল শ্রেণীর পাখি, জলের সিন্ধু ঘটক প্রভৃতি। কোনো কোনো পরিবারের কখনো কখনো একটিও শাবক বেঁচে থাকেনা। এই প্রতিকূল পরিবেশে থেকেও এদের সংখ্যা প্রায় 4 লক্ষ।


এই অসাধারণ পাখিগুলোর শত্রু শুধু অন্য প্রাণীই নয়। এরা যখন পরিযান করে, খাবারের জন্য বিভিন্ন চাষের জমির ফসল খেয়ে নেয়। এর জন্য স্কটল্যান্ডে সেদেশের সরকার পাখিগুলিকে মেরে ফেলার পরামর্শ দিয়েছে। প্রতি বছর 1000 এরও বেশি পাখি মারা হয় সে দেশে। গত 2017-2018 সালে যার মোট সংখ্যা ছিল 3300 এরও বেশি।

এই Barnacle goose দের নিয়ে BBC ও National Geographic Channel একটি তথ্যচিত্র তৈরি করেছে। বেশ কয়েক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম, ধর্য্য আর অপেক্ষার ফল এই তথ্যচিত্রটি। এর উপস্থাপনা করেছে Bear Grylls. যেখানে ব্যবহৃত একটি camera র দাম মাত্র $80,000 যা ভারতীয় টাকায় প্রায় 55 লক্ষ। ডিম পারার 20 দিন পর যেকোনো সময় ডিম ফুটে বাচ্ছা বার হতে পারে। তাই এই team কে দিবা-রাত্র এক করে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হয়েছে পাখিগুলির বাসায়। তৈরি থাকতে হয়েছে প্রতিক্ষনে- ছবি নেওয়ার জন্য। যখন বাচ্ছারা লাফ দেয় তখন team এর কাছে আসে এক অন্য সমস্যা। একটা ছোট্ট জিনিসের ছবি তুলতে হবে যার রং ধূসর আবার পিছনের পাহাড়ের রংও ধূসর। শুধু তাইই নয়, যেকোনো মুহূর্তে পাহাড়ের সঙ্গে ধাক্কা লেগে গতিপথের পরিবর্তন হতে পারে বা থেমে যেতে পারে। এই পুরোটা camera বন্ধি করা সহজ কথা নয়। এখানে রইলো সেই তথ্যচিত্র। 



ছবি, তথ্যসূত্র ও Video :-

No comments:

Post a Comment