Monday, June 17, 2019

Philadelphia Experiment

0 comments
রোজকার বাস্তব জীবনের বিভিন্ন ঘটনাগুলোর পিছনের লুকানো তথ্য নিয়ে শুরু হয় না জানা কথা। কিন্তু আমাদের দেখা বা জানা জীবনের পিছনেও থাকে অনেক লুকানো ঘটনা। এমন কিছু ঘটনা আছে আমাদের পৃথিবীতে যা আমরা সাধারণ মানুষ কল্পনাও করতে পারিনা। ইন্টারনেট ঘাঁটতে ঘাঁটতে আমি খুঁজে পাই এমনি কিছু তথ্য, যা জানলে সত্যিই অবাক হতে হয়। তেমনিই একটি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার কথা বলবো আজ। আমি দিব্যেন্দু কর্মকার আজকের পর্বে নিয়ে এসেছি রোমাঞ্চকর না জানা কথা। সময়ের অভাবে পুরো পড়তে না পারলে, পরে নিতে পারেন আজকের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে

আজকের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে:
1943 সালের 22শে অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়া এলাকায় ইউএস নেভি তাদের destroyer escort USS Eldridge জাহাজে   এক বিশেষ  পরীক্ষা করে। আইনস্টাইনের ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি অনুযায়ী কোন স্থানে বড় ইলেকট্রিক্যাল জেনারেটর ব্যবহার করে কোন নির্দিষ্ট বস্তুর চারপাশে আলোকে বেধে ফেলা সম্ভব এবং এতে করে ওই বস্তুটি সাধারণের কাছে অদৃশ্য হয়ে যাবে। এই তত্ত্ব অনুযায়ী বৈজ্ঞানিকরা জাহাজটিকে ফিলাডেলফিয়া থেকে 300 কিমি দূরে ভার্জিনিয়ার নরফোকে টেলিপোর্ট করে দেন 10 সেকেন্ডের জন্য। যদিও সরকারি ভাবে এই পরীক্ষাকে স্বীকার করা হয় না। Morris K. Jessup, Carlos Miguel Allende, Vincent Gaddis প্রমুখরা এই পরীক্ষাকে স্বীকার করে বই ও প্রবন্ধ লিখেছেন।

USS Eldridge (DE-173) ca. 1944

শত্রুর চোখে ধুলো দিয়ে সবাই তাদের পরাজিত করতে চায়। আর সময়টা যদি হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ? যুদ্ধ জাহাজকে যদি radar এ ধরা না দিয়ে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। 1943 সাল আইনস্টাইনের ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি (unified field theories) উপর ভিত্তি করে তৈরি হয় এক পরীক্ষা। এই থিওরিতে মূলত বলা হয়েছে যে যদি কোনভাবে কোন স্থানে আলোকে বেধে ফেলা যায় এমনভাবে যে সেখান থেকে আলো বেরোবেও না ঢুকবেও না তাহলে পৃথিবীর সময়কেও বেধে ফেলা সম্ভব। ওই স্থানে মহাকর্ষ বলও বেধে ফেলা যাবে। আইনস্টাইনের এই তত্ত্বের ব্যবহারিক কোনো প্রমাণ নেই। কিছু গবেষকরা মনে করেন যে এই থিওরির মাধ্যমে বড় ইলেকট্রিক্যাল জেনারেটর ব্যবহার করে কোন নির্দিষ্ট বস্তুর চারপাশে আলোকে বেধে ফেলা সম্ভব এবং এতে করে ওই বস্তুটি সাধারণের কাছে অদৃশ্য হয়ে যাবে। এটাকে সেনাবাহিনী বেশ গুরুত্ব দিয়েছিল আর এজন্যই এই গল্পের সৃষ্টি। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়া এলাকায় ইউএস নেভি তাদের destroyer escort USS Eldridge কে প্রস্তুত করে অদৃশ্য করার এই পরীক্ষাটির জন্য। এর চারপাশে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি বসানো হয় যাতে আলোকে বেধে ফেলা যায়। এই পরীক্ষাটি আংশিক সফল হয়েছিল। অক্টোবর 22, 1943 এ একটি পরীক্ষা করা হয়।শোনা যায় এদিন এল্ড্রিজ প্রায় সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল।অদৃশ্য হবার সময় এর চারপাশে সবুজাভ ধোঁয়া দেখা গিয়েছিল। যখন এল্ডিজ পুনরায় দৃশ্যমান হয় তখন জাহাজে থাকা ক্রুদের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা দেখা জায়,তারা বমিভাব অনুভব করে। কিছু ক্রু মারা যায় বলেও বলা হয়ে থাকে।এরপর নৌবাহিনীর অনুরোধে সরকার পরীক্ষাটি আবার অক্টোবর 28, 1943 এ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কারণ প্রথমবার যন্ত্র সাজানোতে ভুল ছিল। দ্বিতীয়বার অক্টোবর এর 28 তারিখ পরীক্ষাটি করা হয়। এবার এল্ড্রিজ শুধু চোখের সামনেই অদৃশ্য হল না, জায়গাটি থেকেই টেলিপোর্টের মাধ্যমে অদৃশ্য হয়ে নরফোক, ভার্জিনিয়াতে পৌছায়।এবার অদৃশ্য হবার সময় নীল আলো দেখা যায়। ওই স্থান হতে 320 কিমি দূরে ছিল নরফোক। এটা বলা হয়ে থাকে যে নরফোকে এসএস আন্ড্রু ফুরুসেইথ নামক জাহাজের সামনে এটি কিছু সময় সম্পূর্ণ দৃশ্যমান ছিল, এরপর এতি পুনরায় যে স্থান হতে অদৃশ্য হয়েছিল ঠিক সেই স্থানেই ফিরে আসে।প্রচলিত আছে যে এই ভ্রমণের সময় ছিল 10 সেকেন্ড। ক্রুদের সাইড ইফেক্ট ছিল এ ঘটনার পর প্রচণ্ড রকমের। অনেকে শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে যান,অনেকে পাগল হয়ে জান,আবার অনেকেই পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যান এবং আর ফিরে আসেন নি বলে শোনা যায়। এমনও শোনা যায় যে কিছু ক্রু নাকি এই ঘটনার পর কিছু অবিশ্বাস্য ক্ষমতা লাভ করেন,যেমন যে কোন কিছু ভেদ করে চলে যাবার ক্ষমতা। এই গুজব আসে যে যেসব নাবিক এই পরীক্ষার পর বেঁচে ফিরে আসতে পেরেছিল তারা স্বীকার হয় ব্রেইনওয়াশের, যার ফলে তাদের পরবর্তীকালে এই পরীক্ষার কথা আর মনে ছিল না। শোনা যাই এই পরীক্ষার আইনস্টাইন ছাড়াও নিকোলা টেসলা যুক্ত ছিলেন। যদিও তিনি নাকি ভয়াবহ ফলের কথা অনুমান করে পরীক্ষাটি করতে নিষেধ করেন।

1955 UFO researcher ও জ্যোতিপদার্থবিজ্ঞানী Morris K. Jessup একটি বই প্রকাশ করেন, The Case for the UFO নাম। এরপর তিনি অদ্ভুত দুটি চিঠি পান Carlos Miguel Allende নাম এক নাবিকের কাছ থেকে। Allende ছিলেন পাগলাটে এক নাবিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাবিক হিসেবে নাম করেন। আলেন্ড ছিলেন UFO সম্পর্কে আগ্রহী। আলেন্ড তাকে ইউনিফাইড ফিল্ড থিওরি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করতে অনুরোধ করেন। আলেন্ড তার চিঠিতে লিখেছেন, '13 বছর আগে মহাকর্ষ আর ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিজম নিয়ে ইউ এস সরকারের গবেষণার ফলাফল ছিল ভয়াবহ।' তিনি এও দাবি করেন যে তিনি ওই পরীক্ষার সময় USS Eldridge এ ছিলেন। Vincent Gaddis 1963 সালে  Invisible Horizons: True Mysteries of the Sea নামের তার বইয়ে এই ঘটনার বিবরণ দেন। 1978 সালে George E. Simpson and Neal R. Burger একটি বই প্রকাশ করেন, নাম Thin Air. সেখানেও এই পরীক্ষার উল্লেখ পাওয়া যায়। 1979 সালে Charles Berlitz ও তার সহ লেখক ufologist William L. Moore দুজনে মিলে একটি বই প্রকাশ করেন, The Philadelphia Experiment: Project Invisibility.

সরকারি ভাবে কোনো দিনই এই পরীক্ষার কথা স্বীকার করা হয়নি। বলা হয় USS Eldridge ওই সময় বাহামাস-এ ছিল। আরো বলা হয়, যে সংস্থা এই পরীক্ষা পরিচালনা করেছিল অর্থাৎ Office of Naval Research (ONR) তৈরিই হয় 1946 সালে এবং তারা কোনো দিনই radar invisibility নিয়ে পরীক্ষা করেনি।

No comments:

Post a Comment