Monday, August 19, 2019

Water Treatment & Purification

0 comments
ছোট বেলা থেকেই পড়ে এসেছি পৃথিবীর তিন ভাগ জল আর এক ভাগ স্থল। সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় এই এতো জলের মধ্যে মাত্র 1.2 শতাংশ জল পান যোগ্য। এই সামান্য পরিমান জলকেও আমরা দূষিত করে ফেলছি। আবার সেই দূষিত জলকে শুদ্ধ করা জন্য নিরন্তর চেষ্টা করে চলেছি। এমনও দেখছি যে, বাড়িতে water purifier না থাকলে অতিথি জল খেতেও দ্বিধাবোধ করেন। একদিকে সরকারিভাবে চেষ্টা হচ্ছে শুদ্ধ পানীয় জল প্রতি মানুষের নাগালে পৌঁছে দিতে অন্য দিকে আমরা বাড়িতে water purifier এর সাহায্যে জল শুদ্ধ করে পান করছি। কি পদ্ধতিতে জল শুদ্ধ হয়? কোন ফিল্টার আমাদের ব্যবহার করা উচিত? আমি দিব্যেন্দু কর্মকার আজ না জানা কথার এই পর্বে জানাবো সেই কথা।

আজকের বিষয়বস্তু সংক্ষেপে:

জলে বিভিন্ন রাসায়নিক ও জৈব যৌগ মিশে থাকে। বর্তমানে জলে দূষণের পরিমান বেশি থাকায় ফিল্টার করা অত্যন্ত প্রয়োজন। পাইপ লাইনের মাধ্যমে জল সরবরাহের ক্ষেত্রে ক্লোরিনেশন সব থেকে ভালো পদ্ধতি। বোতল ভর্তি জলের ক্ষেত্রে RO এবং UV কার্যকারী ভূমিকা নেয়। বাড়িতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে NF, UF বা MF উপকারী। তবে ফিল্টার পছন্দের আগে জল পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন। একমাত্র পরীক্ষার পরেই জানা যায় কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা প্রয়োজন। তবে জল যতটা সম্ভব প্রাকৃতিক উপায়ে গ্রহণ করা যায় ততই ভালো। কারণ জলে এমন কিছু উপাদান থাকে যা শরীরের পক্ষে উপকারী।

দূষিত জলে কি কি থাকে?

জল হলো universal solvent বা সার্বজনীন দ্রাবক। প্রায় সব পদার্থই জলে দ্রবীভূত হতে পারে। মাটির কণা, ধুলো, বালি ইত্যাদি সাধারণ বিষয়। জলের মধ্যে থাকতে পারে সোডিয়াম, ব্রোমাইড, আর্সেনিক, iron বা লোহা, বিভিন্ন ধরণের লবন, কীটনাশক, acid, ক্ষার এমনই অনেক পদার্থ। শুধু দ্রব্যই নয় থাকতে পারে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া, ফাঙ্গাস ইত্যাদি জৈবিক উপাদান। দেখতে পরিষ্কার জলের মধ্যেই থাকে এসব উপাদান। তাই দেখে নয় সঠিক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার মাধ্যমেই জানা সম্ভব জলের মধ্যে সঠিক কি আছে। তবে বাড়িতে বসেই TDS মিটারের সাহায্যে জানা যেতে পারে জলে এই সব বস্তুর মোট পরিমান কত। TDS হলো Total Dissolved Solid অর্থাৎ জলে দ্রবীভূত লবন, ধাতু, ক্যালসিয়াম ইত্যাদির পরিমান। তবে এর সাহায্যে অশুদ্ধি বা জৈবিক উপাদানের পরিমান জানা যায়না। TDS 300 এর কম হলে তা সুরক্ষিত জল। TDS এর মাত্রা 300-500 হলেও হলে গ্রহণ যোগ্য কিন্তু দীর্ঘসময়ের জন্য অনুচিত। আর TDS 500 এর উপর হলে সে জল পান করার অনুপযোগী।

Chlorination:

জল শুদ্ধ করার জনপ্রিয় পদ্ধতি ক্লোরিনেশন। পাইপ লাইনের মাধম্যে জল সরবরাহের ক্ষেত্রে এটিই সবথেকে ভালো পদ্ধতি। প্রথমে পরিমান মতো ক্লোরিন মেশানো হয়। ক্লোরিন জলের প্রায় সবরকম জৈব ও রাসায়নিক অশুদ্ধি দূর করে বিক্রিয়ার মাধ্যমে। কিন্তু তার জন্য জলে ক্লোরিন মিশিয়ে অন্তত 20 মিনিট রাখতে হয়। বিক্রিয়ার পর উৎপন্ন বর্জ্যগুলি জলেই মিশে থাকে। তাছাড়া অতিরিক্ত ক্লোরিনও জলে থাকে। এবার ওই জলকে back-washing de-chlorination filer এর মাধ্যমে ফিল্টার করা হয়। এবার জল পাইপের মাধ্যমে সরবরাহ করার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু পাইপের মধ্যে পুনরায় ব্যাক্টেরিয়া বা অন্যান্য অশুদ্ধি মিশে যেতে পারে। এরজন্য সরবরাহের আগে অতি সামান্য পরিমানে ক্লোরিন পুনরায় মিশিয়ে দেওয়া হয়।

Reverse Osmosis (RO) বা বিপরীত অভিস্রবণ:

Semi-permeable membrane বা অর্ধভেদ্য পর্দার মধ্যদিয়ে দুটি ভিন্ন ঘনত্বের দ্রবনের দ্রাবক কম ঘনত্ব থেকে বেশি ঘনত্বের দিকে ব্যাপিত হওয়াকে অভিস্রবণ বা Osmosis বলে। এই প্রক্রিয়ার সাহায্যে উদ্ভিদ মাটি থেকে জল সংগ্রহ করে। উচ্চচাপ প্রয়োগে এর বিপরীত প্রক্রিয়া ঘটান সম্ভব। Reverse Osmosis প্রক্রিয়াতে যে  পর্দা ব্যবহার করা হয় তাতে যে ছিদ্র থাকে তার মাপ হলো 0.0001 micron. মাইক্রন বা মাইক্রোমিটার হলো 1 মিলিমিটারের 1000 ভাগের 1 ভাগ। এতো ছোট ছিদ্রের পর্দা ব্যবহার করে Reverse Osmosis এর পরে যে জল পাওয়া যায় তাতে জল ছাড়া আর কিছুই প্রায় থাকে না। অর্থাৎ অতিরিক্ত শুদ্ধ হয়ে যায় এই জল। দীর্ঘকাল এই জল গ্রহণের ফলে দেহের খনিজ পদার্থ বা লবণের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাছাড়া এই জলে কিছুটা acidic হয়ে থাকে যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক। এর জন্য এই জলে পুনরায় বিভিন্ন খনিজ পদার্থ, লবন, ক্ষার মেশাতে হয়। এরজন্য কিছুদিন অন্তর ফিল্টার পরিবর্তন করতে হয়। সাধারণত বোতল বন্ধি বা প্যাকেট জাত জল এই পদ্ধতিতে শোধন করা হয়। বর্তমানে RO Technology যুক্ত ফিল্টার বাড়িতে ব্যবহারের জন্য কিনতে পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিতে প্রচুর জল নষ্ট হয়। শুরুতে RO সাধারণত জাহাজে সমুদ্রের জল শোধনের জন্য ব্যবহৃত হতো।

Ultra Violet Ray (UV):

জলের জৈব উপকরণ দূর করার সবথেকে ভালো উপায় UV Ray. জল UV chamber এর মধ্যে দিয়ে পাঠানোর সময় এর উপর ultra violet ray ফেলা হয়। UV ray প্রায় সব ধরণের জৈব অশুদ্ধি যেমন ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া সব মেরে ফেলে। কিন্তু কোনো রাসায়নিক বা পদার্থ এই পদ্ধতিতে ফিল্টার করা যায়না।

Ozonation (O3):

ওজোন (Ozone) হলো অক্সিজেনের আর এক রূপ। এটি প্রায় সব ধরণের ধাতু বা মৌল বা আয়ন কে oxidize বা জড়িত করে দেয়। এমনকি জৈব পদার্থকেও ধ্বংস করে দেয়। কিন্তু ওজোন খুব অস্হিতিশীল পদার্থ। তৈরি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অক্সিজেনে পরিবর্তিত হয়। তাছাড়া এটি তৈরি করতে প্রচুর ইলেক্ট্রিসিটি বা energy এর প্রয়োজন। Ozonation এর বিক্রিয়ার ফলে যে পদার্থ তৈরি হয় তাকে আবার ফিল্টার করার প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতিতে কীটনাশক বা ফার্টিলাইজার মিশ্রিত জল খুব ভালো ভাবে শুদ্ধ করা যায়।

Nano Filtration (NF), Ultra Filtration (UF) & Micro Filtration (MF):

খুব ছোট ছিদ্রযুক্ত membrane এর সাহায্যে ফিল্টার করা হয়। জল যখন এই membrane এর মধ্য দিয়ে যায় তখন এই membrane এর মধ্য বিভিন্ন অশুদ্ধি জমা হতে থাকে। এর জন্য বেশ কিছুদিন অন্তর এই membrane পাল্টানোর প্রয়োজন হয়। এই পদ্ধতিতে কোনো বিক্রিয়া হয়না বা কোনো উপজাত দ্রব্য তৈরি হয়না। ছিদ্রের আকারের উপর নির্ভর করে এই পদ্ধতি গুলির নামকরণ করা হয়েছে।
Filter Type
Size of Whole
(in Micron)
Reverse Osmosis (RO)
0.0001
Nano Filtration (NF)
0.01-0.001
Ultra Filtration (UF)
0.1
Micro Filtration (MF)
1

Active Carbon and Sand:

কার্বন বা চারকোল এবং বালি কয়েকটি স্তরে সাজিয়ে এই ফিল্টার তৈরী করা হয়। এটি সব থেকে প্রাচীন পদ্ধতি। সাধারণ অশুদ্ধি ও জৈব পদার্থ দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। ঘরোয়া পদ্ধতিতেও এটি বানানো যায়। জলে দূষণ বেশি থাকলে এটি ব্যবহার না করায় ভালো।

কোন ফিল্টার ব্যবহার করা উচিত?

ফিল্টার ব্যবহারের পূর্বে জেনে নেওয়া দরকার জলে কি প্রকার অশুদ্ধি আছে। এর জন্য জলের পরীক্ষা করানো দরকার। বিভিন্ন শহরে জল পরীক্ষা কেন্দ্র আছে। তবে TDS মিটার ব্যবহার করে বাড়িতেই ধারণা করা যায় জলের অশুদ্ধির পরিমান। বিভিন্ন ফিল্টারের দোকানে TDS মিটার থাকে। এক গ্লাস জল নিয়ে গিয়ে TDS রিডিং নিয়ে আসা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে TDS মিটারে জৈব অশুদ্ধি ধরা পরে না, এর জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে জল পরীক্ষা করতে হবে।

সাধারণত টিউবওয়েলের জলে অশুদ্ধির পরিমান কম থাকে, জৈব পদার্থের উপস্থিতি কম থাকে। নদী বা পুকুরের জলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক পদার্থ তুলনামূলক বেশি থাকে। আর্সেনিক, ব্রোমাইড ইত্যাদি অত্যন্ত ক্ষতিকারক পদার্থ জলে আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করতে হবে। যদি থাকে তবে NF বা RO technology ব্যবহার করা উচিত। জলে অশুদ্ধির মাত্রা কম থাকলে বা ক্ষতিকারক জৈব পদার্থ (ভাইরাস, ব্যাক্টেরিয়া) না থাকলে, Active Carbon and Sand বা Ultra Filtration (UF) পদ্ধতি ব্যবহার যথেষ্ট। কিছু কোম্পানি এই দুয়ের সমন্বয়ে স্বল্পমূল্যের ফিল্টার তৈরি করে। যার কার্যকারিতা খুবই ভালো।

বিক্রির জন্য বোতল ভর্তি বা প্যাকেট জলের ক্ষেত্রে RO এবং UV technology একসাথে ব্যবহৃত হয়। তবে সেক্ষেত্রে কৃত্রিম উপায়ে কিছু mineral, লবন ও ক্ষার জাতীয় দ্রব্য মেশানো হয়। যে জন্য বোতলের গায়ে mineral water এর বদলে লেখা থাকে with added mineral. কৃত্রিম ভাবে কোনো কিছু গ্রহণ করার থেকে প্রাকৃতিক ভাবে গ্রহণ করা ভালো। সেজন্য অপ্রয়োজনে RO technology ব্যবহার না করা উচিত। সাধারণত RO ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না, বিশেষত সরকারি ভাবে যে জল বাড়িতে পৌঁছেছে। সেখানে আগে থেকেই treatment করেই জল সরবরাহ করা হয়। সরকারি ভাবে যে জল পাইপ লাইন দিয়ে সরবরাহ করা হয় তা সাধারণত chlorination পদ্ধতিতে পরিশুদ্ধ করা হয়ে থাকে। ওই জলে অনেক প্রাকৃতিক পদার্থ থাকে যা আমাদের শরীরে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। আমরা ওই জলকে RO সাহায্যে ফিল্টার করে আবার কৃত্রিম পদ্ধতিতে mineral, লবন ও ক্ষার মেশাই।

বর্তমানে আমরা ভালো জলের জন্য বিজ্ঞাপন দেখে কিছু ফিল্টার ব্যবহার করি যা হয়তো আমাদের প্রয়োজনীয় নয়। যেমন RO ফিল্টার ব্যবহারের পর আর কিছুই জলে থাকে না। এরপর জলকে UV বা UF এর মধ্যে দিয়ে পাঠানোর কোনো প্রয়োজনই থাকে না। তবু কোম্পানিগুলি তাদের বিক্রি বাড়াবার জন্য RO+UV+UF ফিল্টার তৈরি করে। অনেকে তো আবার TDS Controller নামক যন্ত্রও বসিয়ে দেয়। এরা জলকে দুইভাগে ভাগ করে, RO এবং UV দুই পদ্ধতিতে আলাদা আলাদা ভাবে ফিল্টার করে। তারপর TDS controller এর মধ্যদিয়ে আবার মিশিয়ে আমাদের উপহার দেয়।

No comments:

Post a Comment