বাড়িতে অতিথি এসেছে। আপ্যায়ন করতে হবে, মিষ্টি কিনতে হবে। বাজারে যেতে হবে না বাজারে দাদা আছে ফোন করে দে। ডায়াল করলাম দাদাকে। বিপ বিপ বিপ...... । কি সমস্যা ফোন কিছুতেই লাগেনা।
এ সমস্যায় পড়েনি এমন কেউ নেই। কেন যে ডায়াল করার সঙ্গে সঙ্গে ফোন লাগেনা? কেন এই বিপ বিপ আওয়াজ হয়? আগেকার মতো তো আর টেলিফোন এক্সচেঞ্জ নেই যে সময় লাগবে call connect হতে। না আছে তারের সমস্যা, এখন সবই wireless. তবুও কেন এতো সময় লাগে? হাওয়ায় ভেসে যায় কিভাবে আমাদের কথাগুলো? আজ "না জানা কথা"-র তৃতীয় পর্বে থাকছে এসবেই উত্তর।
এতো কিছু জানার আগে একটু জেনে নেওয়া যাক টেলিফোনের শুরুর দিন গুলোর কথা। পৃথিবীতে যখন প্রথম টেলিফোনে ব্যবস্থা শুরু হয় অর্থাৎ 1876 সালে, তখন শুধুমাত্র একটি টেলিফোন থেকে অন্য একটি নির্দিষ্ট টেলিফোনেই ফোন করা যেত। সেই দুটি টেলিফোন যুক্ত থাকতো সরাসরি একটি মাত্র তারের মাধ্যমে। এরপর যখন টেলিফোন ব্যবস্থার বাণিজ্যিক বিস্তার হলো তখন আসলো telephone exchange, সাল 1878. তখন কাউকে ফোন করতে হলে প্রথমে কথা বলতে হতো exchange operator এর সঙ্গে। তাকে বলতে হতো কার সঙ্গে কথা বলতে চায় অর্থাৎ ব্যক্তির নাম? সেই operator তখন নিজে হাতে telephone line এর plug টি লাগিয়ে দিতো ওই ব্যক্তির নামে। টেলিফোনের গ্রাহক সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে আসলো phone number এর ধারণা। এরপর phone number এর সঙ্গে যুক্ত হলো area code. একই অঞ্চলের টেলিফোন সংযোগের জন্য হলো automatic exchange এর ব্যবস্থা। কিন্তু ভিন্ন area তে phone করতে হলে তখনও শরণাপন্ন হতে হতো operator এর। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এখন সমস্ত ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয় বা automatic. এতো গেলো land phone এর কথা। Mobile phone এও একই ব্যবস্থা তবে একটু অন্যভাবে।
আমরা মোবাইল ফোনে কোনো তারের সংযোগ দেখি না। কিন্তু মোবাইল ফোনটি যে tower এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সেই tower টি অন্য সমস্ত tower এর সঙ্গে তারের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। আমরা যখন প্রথম মোবাইল সংযোগ নিই তখন আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় পরিচয় পত্র। সেই পরিচয় পত্র সংরক্ষিত থাকে মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাছে। পরিচয় পত্র পরীক্ষা করে মোবাইল কোম্পানি আমাদের কে একটি SIM card দেয়। প্রতিটি SIM কার্ডের একটি নির্দিষ্ট করে নম্বর থাকে। এই SIM টি আমাদের ফোনকে tower এর সাথে যুক্ত করে। প্রতিটি tower হলো এক একটি BTS অর্থাৎ Base Transceiver Station.এটি মোবাইল থেকে আসা signal গ্রহণ করে আর মোবাইলের উদ্দেশ্যে আসা signal কে মোবাইলে প্রেরণ করে। একটি অঞ্চলে যতগুলি BTS থাকে সেগুলি আবার যুক্ত থাকে Mobile Switching Center বা MSC এর সঙ্গে। প্রতিটি মোবাইলের একটি করে Home MSC থাকে। যেখানে সংরক্ষিত থাকে মোবাইলের ব্যাবহারকারির পরিচয়, mobile handset এর IMEI নম্বর, location, IP address, call register ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য। এই তথ্যগুলি আবার বিভিন্ন MSC এর সঙ্গে share করা থাকে। মোবাইল ব্যবহারকারী যদি অন্য কোনো MSC এর অঞ্চলে যায় তাহলে সেই MSC সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য পাঠিয়ে দেয় Home MSC কে।
এখন আমাদের মোবাইল ফোন থেকে কোনো মোবাইল নম্বর dial করলে নম্বরটি প্রথমে electromagnetic wave এর মাধ্যমে tower এ পৌঁছায়। Tower এ অবস্থিত BTS সেটিকে পাঠিয়ে দেয় MSC তে। MSC পরীক্ষা করে দেখে যে মোবাইল নম্বরটির Home MSC কোনটি। যদি নম্বরটি ওই MSC এর অন্তর্গত হয় তবে সেটি কোন BTS এ আছে খোঁজ নেয় এবং ওই BTS এর মাধ্যমে wave টি পৌঁছে দেয় মোবাইলে। কিন্তু home MSC অন্য হলে wave টি পাঠিয়ে দেয় নম্বরটির Home MSC তে। এখন ওই MSC খোঁজ নেয় মোবাইলটি বর্তমানে কোন MSC তে আছে। সেই MSC তে wave টিকে পাঠিয়ে দেয়। এবার ওই MSC দেখে মোবাইলটি কোন BTS এ আছে। খোঁজ পেলে MSC ওই BTS টির tower মারফত wave টিকে পাঠিয়ে দেয় নির্দিষ্ট নম্বরের মোবাইলটিতে। মোবাইলে তখন ring বেজে উঠে। আর যদি ব্যস্ত থাকে তো উত্তর পাঠায় যে নম্বরটি এখন ব্যস্ত আছে। আর যদি খুঁজে না পায় তো বলে দেয় যে পরিষেবা সীমার বাইরে আছে।
মোবাইল নম্বর dial করার পর এই কর্মকান্ড চলতে থাকেকালীন যাতে গ্রাহক বুঝতে পারে যে নম্বরটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে তাই ওই বিপ বিপ শব্দ আমরা শুনতে পায়।
আমরা মোবাইল ফোনে কোনো তারের সংযোগ দেখি না। কিন্তু মোবাইল ফোনটি যে tower এর সঙ্গে যুক্ত থাকে সেই tower টি অন্য সমস্ত tower এর সঙ্গে তারের সঙ্গেই যুক্ত থাকে। আমরা যখন প্রথম মোবাইল সংযোগ নিই তখন আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হয় পরিচয় পত্র। সেই পরিচয় পত্র সংরক্ষিত থাকে মোবাইল কোম্পানিগুলোর কাছে। পরিচয় পত্র পরীক্ষা করে মোবাইল কোম্পানি আমাদের কে একটি SIM card দেয়। প্রতিটি SIM কার্ডের একটি নির্দিষ্ট করে নম্বর থাকে। এই SIM টি আমাদের ফোনকে tower এর সাথে যুক্ত করে। প্রতিটি tower হলো এক একটি BTS অর্থাৎ Base Transceiver Station.এটি মোবাইল থেকে আসা signal গ্রহণ করে আর মোবাইলের উদ্দেশ্যে আসা signal কে মোবাইলে প্রেরণ করে। একটি অঞ্চলে যতগুলি BTS থাকে সেগুলি আবার যুক্ত থাকে Mobile Switching Center বা MSC এর সঙ্গে। প্রতিটি মোবাইলের একটি করে Home MSC থাকে। যেখানে সংরক্ষিত থাকে মোবাইলের ব্যাবহারকারির পরিচয়, mobile handset এর IMEI নম্বর, location, IP address, call register ইত্যাদি যাবতীয় তথ্য। এই তথ্যগুলি আবার বিভিন্ন MSC এর সঙ্গে share করা থাকে। মোবাইল ব্যবহারকারী যদি অন্য কোনো MSC এর অঞ্চলে যায় তাহলে সেই MSC সঙ্গে সঙ্গে সেই তথ্য পাঠিয়ে দেয় Home MSC কে।
এখন আমাদের মোবাইল ফোন থেকে কোনো মোবাইল নম্বর dial করলে নম্বরটি প্রথমে electromagnetic wave এর মাধ্যমে tower এ পৌঁছায়। Tower এ অবস্থিত BTS সেটিকে পাঠিয়ে দেয় MSC তে। MSC পরীক্ষা করে দেখে যে মোবাইল নম্বরটির Home MSC কোনটি। যদি নম্বরটি ওই MSC এর অন্তর্গত হয় তবে সেটি কোন BTS এ আছে খোঁজ নেয় এবং ওই BTS এর মাধ্যমে wave টি পৌঁছে দেয় মোবাইলে। কিন্তু home MSC অন্য হলে wave টি পাঠিয়ে দেয় নম্বরটির Home MSC তে। এখন ওই MSC খোঁজ নেয় মোবাইলটি বর্তমানে কোন MSC তে আছে। সেই MSC তে wave টিকে পাঠিয়ে দেয়। এবার ওই MSC দেখে মোবাইলটি কোন BTS এ আছে। খোঁজ পেলে MSC ওই BTS টির tower মারফত wave টিকে পাঠিয়ে দেয় নির্দিষ্ট নম্বরের মোবাইলটিতে। মোবাইলে তখন ring বেজে উঠে। আর যদি ব্যস্ত থাকে তো উত্তর পাঠায় যে নম্বরটি এখন ব্যস্ত আছে। আর যদি খুঁজে না পায় তো বলে দেয় যে পরিষেবা সীমার বাইরে আছে।
মোবাইল নম্বর dial করার পর এই কর্মকান্ড চলতে থাকেকালীন যাতে গ্রাহক বুঝতে পারে যে নম্বরটির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে তাই ওই বিপ বিপ শব্দ আমরা শুনতে পায়।